মুখগহ্বরে আলজিহ্বার পেছনে দুপাশে অবস্থিত গ্রন্থির নাম হল #টনসিল। এই গ্রন্থির প্রধান কাজ হল গলায় প্রদাহ তৈরি করতে পারে এমন #জীবাণু নষ্ট করা কিংবা গলায় কোনো প্রদাহ হলে তা সারিয়ে তুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। এই গ্রন্থিতে সৃষ্ট পাথরকেই বলা হয় টনসিল #স্টোন।
মানবদেহে সৃষ্ট পাথর বা শক্ত উপাদানের  মূল উপকরণ হল #ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়ামের সঙ্গে যখন  কার্বন, ফসফেট ইত্যাদি উপাদান মিলে তখন 
এই পাথরগুলো গড়ে ওঠে। আর মুখগহ্বরে টনসিল স্টোনের ক্যালসিয়ামের যোগান আসে খাবারের স্বাদের জন্য দায়ি উপাদানগুলো থেকে।
 একটি টনসিল স্টোন এর আকার ২ মিলিমিটার থেকে ১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই পাথরের আকারের উপর এর গন্ধ নির্ভর করে। যত বড় তত #দুর্গন্ধ হয়।
টনসিল স্টোন এর #কারণ:  
১। খাবার খাওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি পান না করলে 
২। মুখগহ্বরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কম করলে 
৩। দাঁত ব্রাশ না করলে খাবারের অতি ক্ষুদ্র অংশ যদি টনসিল গ্রন্থির উপর আটকে যায় । 
৪। কোনো ব্যক্তির লালা অতিরিক্ত ঘন হলেও এই গ্রন্থির উপর খাবার আটকে থাকতে পারে।
  আটকে যাওয়া খাবারের অংশ ক্যালসিয়াম ও বিভিন্ন উপাদান শোষণ করতে থাকে এবং আকারে বড় হয়। এটাই পরবর্তীতে পরিণত হয় টনসিল স্তিতে
৫।খনিজ সমৃদ্ধ খাবার অতিরিক্ত খেলেও টনসিল স্টোন হতে পারে।

টনসিল স্টোন এর উপসর্গ:
১। মুখে দুর্গন্ধ টনসিল স্টোনের প্রধান উপসর্গ। দিনে দুবেলা নিয়ম করে দাঁত ব্রাশ করে, মাউথ ওয়াশ দিএ কুলি  করে, 
মিন্ট চকলেট খেয়ে কোনোভাবেই এই #দুর্গন্ধ যায় না।
২। গলায় #ব্যথা। 
টনসিল স্টোন নির্ণয়ঃ
ছোট অবস্থায় কোনো পরীক্ষার মাধ্যমে টনসিল স্টোন খুজে বের করা যায় না।তবে  আকারে যখন বড় হয় তখন‘#ল্যারিনোস্কোপি’ 
পরীক্ষার মাধ্যমে এই পাথর চিহ্নিত করা যায়।  

প্রতিকার ও প্রতিরোধ: 
টনসিল স্টোন #শিশুদের সবথেকে বেশি হয়। কারণ, তারা সঠিক  ভাবে মুখ পরিস্কার করতে জানে না ।
 প্রাপ্তবয়স্কদের এই সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কম হলেও হতে পারে। 
খাবার খাওয়ার পর পানি পান , নিয়মিত দাঁত মাজলে, মুখ ধোয়ার সময় গড়গড়া করে কুলি করলে টনসিল স্টোন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে

টনসিল স্টোন হলে ডাক্তার এর শরণাপন্ন হতে হবে।
ডাঃ শাম্মা মায়িশা
বি ডি এস, এম পি এইচ
০১৯৭৮২৭০৪২৭