বাংলাদেশ এ যদিও মানুষিক স্বাস্থ্য এর বিষয় টা সব থেকে অবহেলিত। তা ও জানা প্রয়োজন।
 করোনাভাইরাস বর্তমান  বিশ্ব কে অনিশ্চয়তায়  ও দুর্ভাবনায় ডুবিয়ে রেখেছে এবং মহামারী সম্পর্কিত  সংবাদ মানুষ কে চিন্তায় রাখছে সবসময় ।
 এর প্রভাব পুরোটাই  মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে পড়েছে, বিশেষত যারা ইতিমধ্যে উদ্বেগ এবং হাইপার টেনশন এর  মতো পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করছেন।

সংবাদটি সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হওয়া টা যদিও  বোধগম্য, তবে অনেকের পক্ষে এটি বিদ্যমান মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা টিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় আপনার মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে পরামর্শ প্রকাশ করার বিষয় টিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এ 
 স্বাগত জানিয়ে ছিল। 
১। মানুষিক সমস্যা কমাতে, করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত যে সংবাদ আপনাকে উত্তেজিত করে তা দেখা, শোনা বা বোঝা থেকে দূরে থাকা উচিৎ।
২। নিজে আর আপনজন দের সুস্থ থাকার জন্য যতটুকু জানা দরকার সেটুকু পদক্ষেপ গ্রহন করা। 
৩। সবসময় ভিত না হয়ে , সুনির্দিষ্ট সময়ে এই সম্পর্কিত খবর দেখা। 

 যুক্তরাজ্যের নিকি লিডবেটার উদ্বেক কে  ব্যাখ্যা করেন, উদ্বেগ জনিত অসুস্ততার সাধারন বৈশিষ্ট্য হল কোন কিছু   নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকার ভয় 
এবং অনিশ্চয়তা সহ্য করতে না পারার ভয় । সুতরাং এটি বোধগম্য যে যাদের উদ্বেগ এর পূর্ব ইতিহাস আছে তারা  এই মুহুর্তে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। 

তাহলে আমরা কীভাবে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করতে পারি?

করোনা সম্পর্কিত খবর দেখা  সীমিত করুন এবং সাবধানতার সাথে খবর দেখুন 
 এখন পর্যন্ত  পৃথিবীর অনেকেই বেশি খবর দেখার ফলে anxiety attack এ আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মতে,


“যখন আমি উদ্বিগ্ন বোধ করি তখন আমার চিন্তাভাবনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং আমি বিপর্যয় কর ফলাফল সম্পর্কে চিন্তাভাবনা শুরু করি," 

"সাধারণত আমি যখন কষ্ট পাই তখন আমি কোনও পরিস্থিতি থেকে দূরে যেতে না পারি, তখন  এটি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় " " 

নিউজ ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থেকে এই উদ্বেগ দূর করা সম্ভব । তাহ লে এ ক্ষেত্রে যা মানতে হবেঃ

    ১। আপনি এমনকিছু  পড়ার বা দেখার বিষয় এ  ব্যয় করা সময়ের পরিমাণ সীমাবদ্ধ করুন যা আপনাকে ভাল বোধ করায়  না।
 একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে খবর দেখার সিদ্ধান্ত নিন। 
   ২।  চারদিকে প্রচুর ভুল তথ্য রয়েছে ।নির্ভর যোগ্য ওয়েবসাইটগুলির তথ্যের উপর আস্থা রাখুন। 


সামাজিক মিডিয়া থেকে বিরতি নিন মূলত যা আপনাকে উত্তেজিত করে 

সুত্র মতে, ম্যানচেস্টার থেকে আসা 24 বছর বয়সী যুবতী  অ্যালিসনের health anxiety রয়েছে এবং তিনি সবসময় বিষয়টি অবহিত থাকতে এবং 
তা নিয়ে  গবেষণা করতে বাধ্য হন । তবে একই সাথে তিনি জানেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি এর অন্যতম কারণ হতে পারে। 

"এক মাস আগে আমি হ্যাশট্যাগগুলিতে ক্লিক করছিলাম এবং এই যাচাই না করে  সমস্ত ষড়যন্ত্রের আবর্জনা দেখছিলাম এবং জানতাম না 
 এটি যে আমাকে সত্যিই উদ্বিগ্ন করে তুলবে এবং আমি সত্যিই হতাশ এবং কান্নাকাটি বোধ করব," তিনি বলেছিলেন।

তবে তিনি এখন  কোন অ্যাকাউন্টে ঢুকবেন  এবং করোনাভাইরাস এর কোন হ্যাশট্যাগগুলিতে ক্লিক করা এড়িয়ে চলবেন সে সম্পর্কে এখন তিনি  যত্নশীল। 
তিনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকার জন্য, টিভি দেখা বা তার পরিবর্তে বই পড়ার জন্য খুব চেষ্টা করছেন।
আর যা যা করণীয়ঃ 
  ১।   মূল শব্দগুলি mute  করুন যা টুইটারে ট্রিগার হতে পারে অথবা unfollow করুন।
  ২। যদি বেশি সমস্যা করে বা বার বার দেখতে মন চায়, তাহলে  হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলি নিঃশব্দ করুন এবং ফেসবুক পোস্টগুলি লুকিয়ে রাখুন ।
সুত্রঃ বিবিসি
মানুসিক ভাবে ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
Dr.Shamma Maisha
BDS,MPH