“কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে, কভু আশি বিশে দংশেনি যারে” দাঁতের ব্যথা নিয়ে কবি এর  এই কবিতাটি অনেকেই উচ্চারণ করেন। 
এক সময়ে বলা হতো দাঁতের ব্যথা মানেই দাঁত তুলে ফেলা। অর্থাৎ  দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল। 
কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের গবেষণায় তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। পশ্চিমা দুনিয়া তে  এখন দাঁত তোলার রেওয়াজ প্রায় নেই বললেই চলে।
 কোন সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া দাঁত তুলে ফেলা কোনোভাবেই  উচিত না। 
অনেকেই জানেন না যে, একটি প্রদাহজনিত দাঁত বা ইনফেকটেড দাঁত অথবা ব্যথার দাঁত তুলে ফেললে শরীরে দেখা দিতে পারে রকমারি রোগ আর জটিলতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘শরীরের যে কোনও অঙ্গের মতো দাঁতের সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরী।
 দাঁত তুলে ফেললে শুধু যে সৌন্দর্য ব্যাহত হয় তা নয়, কথা বলতে শব্দ উচ্চারণ ও সমস্যা হয়। 
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘দাঁতে কোনও ইনফেকশন হলে চোখের অপারেশন করা যায় না। আগে দাঁতের ইনফেকশন কমিয়ে তবেই চোখের সার্জারি করা যায়। 
 বর্তমান এ আধুনিক চিকিত্সায় আজকাল ইনফেকশন কমিয়ে দাঁতের সংরক্ষণ করা সম্ভব। 

এ ছাড়াও দেখা গেছে দাঁতে ইনফেকশন হলে অনেক সময় মাথা, কানে রেফারড পেইন  হয়।’
 গবেষণায় দেখে গেছে হার্টের সমস্যা থাকলে দাঁত সার্জারীর সময় হার্টের সমস্যা হতে পারে। কারণ ডেন্টাল সার্জারিতে ব্যাকটিরিয়া রক্তে প্রবেশ করে,
 ফলে তা  হার্টের ক্ষতি করে। 
সময়মত অ্যান্টিবায়োটিক কভারেজে দাঁতের চিকিত্সা এবং সেই সাথে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত টেকনোলজি অর্থাত্ জীবাণুমুক্ত 
পরিবেশের মাধ্যমে দাঁতের চিকিত্সা করা প্রয়োজন। 
যদি কারও পেসমেকার বা প্রস্তেটিক ভালভ থাকে তবে দাঁত তুললে হার্টের ক্ষতি হতে পারে। 
অতএব, প্রয়োজন নিরাপদ পদ্ধতি। এ ক্ষেত্রে আধুনিক কনজারভেটিভ পদ্ধতিতে দাঁতের সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের ধারণা দাঁত ব্যথা হলে তার একমাত্র চিকিত্সা হল দাঁত তুলে ফেলা। 
কিন্তু একটি রোগাক্রান্ত দাঁতকে সুস্থ্য অবস্থায় দীর্ঘদিন সুস্থ, সবল রাখতে সকল ধরণের চিকিত্সা এখন হচ্ছে। যেমন রুট ক্যানেল চিকিত্সা ক্রাউন ক্যাপ ইত্যাদি।
 আমাদের শরীরে কোনো  অঙ্গঁ-প্রতঙ্গের কোনও সমস্যা হলে যেমন আমরা তার যথাযথ চিকিত্সা করি, 
তেমনই দাঁত ব্যথা হলে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে দাঁতের চিকিত্সা প্রয়োজন। বর্তমানে বিজ্ঞানের যুগে দাঁত তুলে ফেলাটা সমাধান নয়। 
গবেষণায় দেখা যায় দাঁত তুলে ফেললে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়।
দাঁত ব্যথা হলে তা তুলে ফেলার খরচ সামান্য হলেও এর ফলে হূদযন্ত্রে বা অন্যান্য অঙ্গ প্রতঙ্গে যে সমস্যা দেখা দিতে পারে, 
হূদযন্ত্রের বিভিন্ন প্রকার চিকিত্সার খরচ অনেক বেশি। এজন্য আমাদের আগে থেকে সতর্ক হওয়াই প্রয়োজন।  
পৃথিবীর উন্নত দেশে তাঁদের হার্ট সংক্রান্ত চিকিত্সার খরচ অনেকটাই কমিয়ে ফেলতে পেরেছেন দন্ত চিকিত্সকদের কাছ থেকে সঠিক সময়ে পরামর্শ নেওয়ার কারণে। 
দেহের প্রতিটি অঙ্গের সুস্থ্যতার জন্য বিশ্বমানের প্রযুক্তির সাহায্যে দাঁত সুরক্ষিত রাখতেই আমরা সবাই সচেষ্ট। 
একটি অসুস্থ্য দাঁতকে উন্নত টেকনোলজির মাধ্যমের সুস্থ্য করতে যে খরচ হয় তা ওই হূদযন্ত্রের চিকিত্সার বিপুল খরচের বহু গুন কম। 
অনেকেই দাঁতের ব্যথার কারণে দাঁত তুলে ফেলতে চান। দাঁতের ব্যথার কারণ বিভিন্ন রকম হতে পারে।
 একটি দাঁতের গঠনাকৃতি দাঁতের বাহিরে এনামেল এবং এর পরবর্তী ভিতরের স্তর ডেন্টিন। এই ডেন্টিন-স্তরের পরই থাকে পালপ চেম্বার, যেখানে সুক্ষ্ম রক্তবাহীস্নায়ু থাকে। 
দাঁতের ক্ষয়রোগের ফলে এনামেল ও ডেন্টিন ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্নায়ু আক্রান্ত হয় এবং তখনই পালপ চেম্বার ইনফেকশন হয়। 
ঐ সময়ে দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা হয়। কিন্তু ঐ অবস্থায় আধুনিক চিকিত্সা রুট ক্যানেল চিকিত্সায় দাঁতকে বাঁচানো সম্ভব। 
পরে একটি মুকুট বা ক্রাউন সরিয়ে দিলেই দাঁত আবার পূর্ববস্থায় ফিরে আসে।
দাঁত ব্যথা হলে রোগীরাই বেশির ভাগ সময় বলেন দাঁতটা উঠিয়ে দিতে। 
প্রথমেই একটি কথা মনে রাখা দরকার, ইনফেকশন নিয়ে কখনওই কোনও দাঁত ওঠানো উচিত নয়। বর্তমানে বিজ্ঞানের যুগে দাঁত ওঠানোর দিন শেষ হয়ে গেছে। 
বর্তমানে দাঁতের সংরক্ষণ নিয়েই গবেষণা হচ্ছে। 
এখন আধুনিক সুক্ষ্ম যন্ত্রাংশের সাহায্যে জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থায় দাঁতের পালপ চেম্বারের ইনফেকশন দুর করে সেখানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বৈজ্ঞানিভাবে প্রস্তুত কিছু পদার্থ
 আন্তর্জাতিক মানের এই চিকিত্সা পদ্ধতিতে এখন রুট ক্যানেল চিকিত্সায় একটি অসুস্থ দাঁতকে বেদনাহীন ও কার্যকর করা যায়।
 এই পদ্ধতিটিতে সাধারণত: পাঁচ দিন বা তার বেশি সময় লাগে। পরবর্তীকালে ওই দাঁতকে মজবুত করার জন্য তার উপর একটি  মুকুট ন্যায়
 (অবিকল দাঁতের রঙের এবং দাঁতের মতোই) বস্তুু বসিয়ে দেওয়া হয়, যার সাহায্যে স্বাভাবিক জিনিসও খাওয়া যায়। 
তবে এই মুকুটের মতো বস্তুটি তৈরীর খরচ সম্পূর্ণ আলাদা। 
কখনো কোনো দুর্ঘটনা বা অন্যান্য কারণে দাঁত ভেঙে গেলেও এই চিকিত্সা পদ্ধতি কাজে লাগানো যেতে পারে। 
এই মুকুটের নাম ক্রাউন, সেটি পরসেলিন, মেটাল বা স্বর্ণেরও হতে পারে। সাধারণত দাঁত ক্যারিজ রোগ বেশী গভীরে গেলে রুট ক্যানেল চিকিত্সার পর ক্রাউন পরানো হয়।
ডাঃ শাম্মা মায়িশা 
বিডি এস, এম পি এইচ